গনগনি

গনগনি কে বলা হয় ” দা গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন অফ বেঙ্গল “। পর্যটক দের কাছে খুবই স্বল্প পরিচিত এই জায়গা । পশ্চিম মেদিনীপুর এর গড়বেতা কাছে অবস্থিত গনগনি । শিলাবতী নদী ধরে ক্ষয় কার্যের ফলে তৈরি প্রায় 70 ফুট নিচু গিরিখাত এক অসামান্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সৃষ্টি করেছে। এখানে যাওয়ার সেরা সময় হচ্ছে শীতকাল । শীতকালে কাছাকাছি জায়গা থেকে অনেকে এখানে পিকনিক করতে আসেন।  লালমাটি, শিলাবতী নদী , ইউক্যালিপটাস আর আকাশমনি গাছের জঙ্গল  যেন শিল্পীর তুলির টানে পটে আঁকা সুন্দর ফ্রেম। যাওয়ার সময় লালমাটির আঁকাবাঁকা পথের দুদিকে কাজুদবাদম এর ঘন জঙ্গল। এখান থেকে গোটা কাজুবাদাম নিয়ে আসতে পারেন বাড়ীর জন্য। যারা ছবি তুলতে ভালো বসেন তাদের জন্য এটি একেবারে আদর্শ জায়গা। গিরিখাত এর নিচে নামার জন্য রয়েছে আঁকা বাঁকা সিঁড়ি। সিঁড়ি বেয়ে একে বারে নদীর তটে পৌঁছে যেতে পারেন কিংবা হারিয়ে যেতে পারেন গিরিখাত এর গুহায়। সকাল এর দিকে গেলে ভালো গিরিখাত এর ভেতরের প্রকৃতির অসামান্য কাজগুলি মন ভরিয়ে দেয়। আলো থাকে অদ্ভুত সুন্দর ছবি আসে। তবে গড়বেতা তে থাকার কোনো ভালো জায়গা নেই। থাকতে পারেন চন্দ্রকোনার পরিমল কানন এ। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বন দপ্তরের অধীনে এখানে কটেজ আছে। পরিমল কাননের রেস্তোরাঁয় খাওয়া দাওয়া বেশ ভালো। পরিমল কানন থেকে গাড়ী ভাড়া করে গনগানি ঘুরে আসা যায়। পরিমল কানন চন্দ্রাকনা রোড এর খুব কাছে । তাই চন্দ্রকোনা রোড স্টেশন থেকে  থেকে ট্রেন এ গড়বেতা গিয়ে গড়বেতা স্টেশন থেকে অটো করে পৌঁছে যেতে পারেন গণগনি।

Gangani

গনগনির আরও অনেক ছবি

কিভাবে যাবেন:

সাঁতরাগাছি থেকে রুপসী বাংলা এক্সপ্রেস (সকাল 6.30),শালিমার থেকে( সকাল 7.45) আরন্যক এক্সপ্রেস এ চেপে গড়বেতা নামতে হবে । গড়বেতা স্টেশন থেকে অটো তে মিনিট ১৫ লাগবে গনগনি । আর যদি পরিমল কানন এ থাকতে চান তবে আগের স্টেশন চন্দ্রকোনা রোড নেমে হাঁটা পথ, টোটো ও পাবেন সবসময় । চন্দ্রকোনা স্টেশন গায়ে দাঁড়িয়ে থাকে মারুতি ওমনি, ভাড়া করে নিতে পারেন গনগনি যাওয়ার জন্য । গাড়ী ভাড়ার জন্য ফোন করতে পারেন এই নম্বর এ-  ৯৯৩৩৭১৯১৩৪ (তাপু)

হাওড়া থেকে গড়বেতা যাওয়ার ট্রেন এর তালিকা

থাকার ব্যবস্থা:

গড়বেতায় ছোটখাটো হোটেল থাকেলেও সবথেকে ভালো থাকার জায়গা চান্দ্রকোনার পরিমল কানন এর বন দপ্তর এর কটেজ । হাতের কাছে টর্চ রাখবেন । কারণ পরিমল কাননের ভেতরে কিছু কটেজ আছে যার থেকে রেস্তোরাঁর দুরত্ব অনেকখানি । রাত্রে চারিদিক অন্ধকার থাকে, রেস্তোরাঁয় যাবার জন্য খানিকটা পথ হেঁটে যেতে হয় ।

ম্যাপ:

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

w

Connecting to %s