ডিজিটাল সিগনেচার কি এবং কিভাবে কাজ করে ?

সে ব্যবসার ক্ষেত্রে হোক কিংবা ই-গভর্নেন্স,- বর্তমানে সবক্ষেত্রে ডিজিটাল সিগনেচার ব্যবহৃত হচ্ছে।  GST চালু হওয়ার পর এখন প্রতিটি ব্যবসার ক্ষেত্রে ডিজিটাল সিগনেচার অত্যাবশ্যক হয়ে পড়েছে । প্রায় অধিকাংশ সরকারী দপ্তর এখন ই-গভর্নেন্স এর আওতায় আসায়, ডিজিটাল সিগনেচার এর প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে । ডিজিটাল সিগনেচার ব্যবহারের ফলে সরকারী দপ্তরগুলিতে কাজের গতি বৃদ্ধি পেয়েছে সেই সাথে কমেছে দিস্তা দিস্তা কাগজ এর অপচয়।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে কি এই ডিজিটাল সিগনেচার? এবং কিভাবেই বা এটি কাজ করে? ধরা  যাক A একটি গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট B কে ই-মেল কিংবা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যম এ পাঠিয়েছে । এখন B কে  ডকুমেন্ট টি পেয়ে দুটি জিনিস সম্পর্কে নিশ্চিন্ত হতে হবে   – 1) ডকুমেন্ট টি সত্যি সত্যি A এর পাঠানো কিনা ? ২) A যে ডকুমেন্ট টি পাঠিয়েছে হুবহু সেই ডকুমেন্ট, B এর কাছে এসে পৌঁছেছে কিনা ? কাগজ পেন এর ক্ষেত্রে সই এবং সিল মাধ্যমে প্রমাণিত হতো ডকুমেন্ট টি A এর পাঠানো । কারণ প্রত্যেক এর সই আলাদা হয় । আর A যে মাধ্যম এ কাগজে লেখা চিঠিটি পাঠাত (ডাক বিভাগ, কুরিয়ার )সেটা খুব বিশ্বাসযোগ্য।  ডিজিটাল সিগনেচার এর সাহায্যে এই দুই ধরনের সত্যতা যাচাই করা যায়।

কোনো ডকুমেন্ট এর ডিজিটাল সিগনেচার এর জন্য প্রথমত যেটা প্রয়োজন সেটা হচ্ছে ডিজিটাল আই ডি বা ডিজিটাল সার্টিফিকেট।  এই ডিজিটাল আই ডি হচ্ছে কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার অনলাইনের অভিন্ন পরিচিতি যা বাস্তবে কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার আই কার্ডের সমতুল্য।  সার্টিফিকেট প্রদানকারী কোনো সংস্থা ( CA) থেকে ডিজিটাল আই ডি কিনতে হয়।  ডিজিটাল আই ডি মধ্যে থাকে দু রকম এর কি (Key) – প্রাইভেট  কি এবং (Private Key) ,পাবলিক কি (Public Key)।  এই দুটি কি গাণিতিক ভাবে সম্পর্ক যুক্ত।  প্রাইভেট  কি এবং পাবলিক কি এর জোড় (Pair) প্রোগ্রাম এর মাধ্যম এ তৈরী হয়।

যখন কোনো সফ্টওয়্যার এ ডকুমেন্ট কে ডিজিটাল সিগনেচার এর জন্য স্বাক্ষর (sign) করা হয় প্রথমে ডকুমেন্ট টির একটি অভিন্ন ডিজিটাল ফিন্গারপ্রিন্ট তৈরী হয় যাকে হ্যাশ ( Hash)বলে । এই হ্যাশ তৈরী করে একটি গাণিতিক এলগরিদম (প্রোগ্রাম )।  হ্যাশ প্রতিটি ডকুমেন্ট এর জন্য আলাদা হয় ।  ডকুমেন্ট এর ন্যুনতম পরিবর্তন ঘটলেও এই হ্যাশ আলাদা হয়।  দ্বিতীয় ধাপে এই হ্যাশকে প্রাইভেট কি মাধ্যম এ এনক্রিপ্ট করা হয় । এনক্রিপ্ট করা হ্যাশ এবং পাবলিক কি সম্মিলিত ভাবে ডিজিটাল ভাবে সাক্ষরিত ডকুমেন্ট তৈরী করে ।  এখন ডকুমেন্ট টি পাঠানোর জন্য তৈরী।

এবার যে ব্যক্তিকে এই ডকুমেন্ট পাঠানো হলো তিনি এই ডকুমেন্ট টিকে ডিজিটাল সিগনেচার সাপোর্ট করে এরকম সফ্টওয়্যার এর মাধ্যম এ খুলবেন । খোলার সময় এই সফ্টওয়্যার স্বংক্রিয়ভাবে ডকুমেন্ট এর সাথে থাকা পাবলিক কি এর সাহায্যে ডকুমেন্ট হ্যাশ কে ডিক্রিপ্ট করবে। এবার প্রোগ্রামটি প্রাপ্ত ডকুমেন্ট এর নতুন একটি হ্যাশ তৈরী করে । যদি এই নতুন হ্যাশ পূর্বে ডিক্রিপ্ট করা হ্যাশ এর সাথে মিলে যায় তাহলে সফ্টওয়্যার মেসেজ দেবে যে ডকুমেন্ট টি অপরিবর্তিত অবস্থায় পৌঁছেছে।

Advertisements

One comment

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s